এই পাতা মূল গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়!
‘কথামালা’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংষ্কারক ও পণ্ডিতাগ্রণ্য ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ রচিত একটি অতি পরিচিত শিশুসাহিত্য ও শিক্ষণীয় নীতিকথার সঙ্কলন। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু:
- উৎসমূল: গ্রন্থটি মূলত গ্রিক গল্পকার ‘ঈশপের নীতিগল্পে’র (Aesop's Fables)’ ওপর ভিত্তি করে রচিত। বিদ্যাসাগর মহাশয় ঈশপের বহুল প্রচলিত রূপকথা ও পশুপাখির নীতিগল্পগুলোকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেছিলেন।
- সহজ-সরল ভাষা: শিশু ও নবীন পাঠকদের পড়ার উপযোগী করার জন্য তিনি তৎকালীন কঠিন সাধুভাষার পরিবর্তে তুলনামূলক সহজ ও বোধগম্য গদ্যরীতি ব্যবহার করেন, যা শিশুদের নীতিশিক্ষা লাভে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
- নীতিশিক্ষা ও উপদেশ: প্রতিটি গল্পের শেষে একটি নির্দিষ্ট নীতিশিক্ষা (Moral) দেওয়া থাকে। যেমন—সততা, ধৈর্য, অহংকার পতনের মূল, বিপদে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় ইত্যাদি শিক্ষা গল্পগুলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- চরিত্র চিত্রণ: গল্পগুলোতে মানুষ, সিংহ, শেয়াল, কাক, ইঁদুর ইত্যাদি পশুপাখির নানা রূপক চরিত্র ব্যবহার করে জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার আলো ফেলা হয়েছে।
বাংলা গদ্যের বিকাশ এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারকল্পে ‘কথামালা’র ভূমিকা অপরিসীম। শিশুমননে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং বাংলা ভাষায় তাদের পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে এই বইটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
এডুলিচার ‘বিদ্যাসাগর রচনাবলী’তে শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত ‘কথামালা’র চতুশ্চত্বারিংশ সংস্করণ অনুসৃত হয়েছে। এটি প্রকাশিত হয়েছিল কলিকাতার সংস্কৃত যন্ত্রে ১৯৪১ সংবতে।